বৃহস্পতিবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, ভোর ৫:১৫
শিরোনাম :
বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ নলছিটিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম সচেতনতায় তরুণ-তরুণীদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত তারুণ্যের নলছিটির ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

নড়াইলে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে বাঁশের বেড়া অপসারণ করে মুক্ত করা হল বসতভিটা

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর অবশেষে নড়াইলের পুলিশ সুপার (এস,পি) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)’র হস্তক্ষেপে মুক্ত হলো নড়াইলের কুচিয়াবাড়ী গ্রামের তরিকুল ইসলামের পরিবার। তাদের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে বাঁশের বেড়া অপসারণ করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সারকেল) শেখ ইমরান, থানা পুলিশের একটি দল। নড়াইলের পুলিশ সুপার (এস,পি)’র এ ধরণের ভূমিকায় খুশি তরিকুলের পরিবারসহ সচেতনমহল।

ভূক্তভোগী তরিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ি ও ক্ষেতের জমি বিক্রির অপরাধে পাশের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে হঠাৎ করে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘরের তিন পাশ ঘিরে ফেলেন। ভয়ে এ অন্যায়ের প্রতিবাদও করতে পারিনি। এক পর্যায়ে আমার মা, স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানসহ আমি ঘরের মধ্যে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ি। বিষয়টি সাংবাদিকরা জানার পর ওইদিন বেলা ১১টার দিকে নড়াইলের লোহাগড়ার থানার ওসিকে অবগত করলেও তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি। এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর রাতে পুলিশ এসে বাঁশের বেড়া অপসারণ করে। এখন আমার দুই শিশু সন্তানসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে ঠিকমত চলাফেরা করতে পারছে। এজন্য নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম-বার) স্যারসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

তরিকুল জানান, পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপের পর গ্রামবাসীও বিষয়টি মীমাংসার জন্য নড়েচড়ে বসেছেন। এজন্য আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ী ইটভাটার পাশে গ্রামবাসী দুইপক্ষের দ্বন্দ্ব মীমাংসার জন্য আলোচনায় বসেছেন। তবে এখনো সুরাহা হয়নি, আলোচনা চলছে। গ্রাম পর্যায়ে বিষয়টি মীমাংসা না হলে নড়াইলের লোহাগড়া থানায় সমাধান করার কথা রয়েছে।

এদিকে, নিপীড়িত তরিকুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সচেতনমহল। তারা বলেন, পুলিশের এ ধরণের ভূমিকা প্রশংসার দাবিদার। শুধু তরিকুল নয়, সবক্ষেত্রেই পুলিশের এমন ভূমিকা প্রত্যাশা করেন ভূক্তভোগীরা। এতে সমাজে মারামারি, হানাহানি, দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও হতাহতের ঘটনা কমে আসবে। মানুষ ন্যায়-বিচার পাবে। ভূক্তভোগী তরিকুল জানান, প্রায় ২৫ বছর ধরে নিজের বসতভিটায় বসবাস করছেন তিনি। মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার সংসার। তার বসতভিটায় প্রায় ৩০ শতক জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতক নিজের কেনা জমি এবং পাঁচ শতক মায়েরপ্রাপ্ত জমি।

পৈতৃকভিটা ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানার কামারগ্রামে বসবাস করার জন্য তরিকুল নড়াইলের লোহাগড়ার তালবাড়িয়া গ্রামের জহিরসহ তার তিন ভাইয়ের কাছে প্রায় ৩০ শতক জমি বিক্রি করেন। ভূমি অফিসে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাচাই শেষে গত ৩১ জুলাই ওই জমি লোহাগড়ায় রেজিস্ট্রি হয়।

এছাড়া গত ৮ আগস্ট ক্ষেতের প্রায় ২১ শতক জমি তরিকুলের প্রতিবেশি শিমুল মোল্যা ক্রয় করেন। জমি বেচাকেনার এ বিষয়টি তরিকুলের মামা পাশের ঝিকড়া গ্রামের হাফিজার রহমান জানতে পেরে ক্ষুদ্ধ হন। এ ঘটনায় হাফিজার শনিবার (১৭ আগস্ট) সকালে হঠাৎ করে তরিকুলের ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেন। এছাড়া হাফিজার রহমান জমির ক্রেতাদের জমিতে আসতে দিবেন না বলেও হুমকি দেন।

তরিকুল ইসলাম বলেন, মায়ের সঙ্গে প্রায় ২৫ বছর ধরে নড়াইলের কুচিয়াবাড়ির জমিতে বসবাস করছি। আর বাবা আছেন ফরিদপুরের বাড়িতে। তিনি মাঝে-মধ্যে আমাদের খোঁজখবর নেন। এখন নিজের বাড়ি ফরিদপুরের কামারগ্রামে বসবাস করার উদ্দেশ্যে এখানকার নড়াইলের (কুচিয়াবাড়ী) জমি বিক্রি করেছি। এ ঘটনায় আমার মামা ঝিকড়া গ্রামের হাফিজুর রহমান আমাদের ঘরের তিন পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়। আর ঘরের পেছনের পাশে কোনো দরজা না থাকায় সেদিকে বেড়া দেয়নি। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে আমরা উন্মুক্ত ভাবে বাড়িতে চলাফেরা করতে পারছি।

তরিকুল আরো বলেন, এ ঘটনার প্রায় দুই বছর আগেও হাফিজুর রহমান আমাদের জমির বড় একটি তালগাছ বিক্রি করে দেন। থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশের হন্তক্ষেপে ওই তালগাছটি ফিরে পাই। তরিকুলের মা স্বরূপজান বলেন, শনিবার সকাল থেকে আমি এবং আমার ছেলে, বেটার বউ ও দুই পুতনি (ছেলের মেয়ে) ঘর থেকে বের হতে পারছি না। বৈধ জমি বিক্রির পরও হাফিজুর আমাদের হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান বলেন, পৈতৃকসূত্রে ওই জমিতে আমার অংশ রয়েছে; তাই আমি বেড়া দিয়েছি। কিন্তু, হঠাৎ করে কেন বেড়া দিলেন? এ প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।